কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প।
মেলবোর্ন, ০১ জুলাই— যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য আলোচনা শুরুর পথ সুগম করতে শেষ মুহূর্তে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিল কানাডা। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (ডিএসটি) বাতিল করেছে বলে খবর প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার কর নীতিকে ‘খোলাখুলি অর্থনৈতিক আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করে চলমান বাণিজ্য আলোচনা বাতিল করেন এবং কানাডার রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দেন। তার ঠিক পরেই কানাডা পিছুপা হয়ে কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
ডিএসটি কার্যকর হলে অ্যামাজন, মেটা, গুগল ও অ্যাপলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টদের কানাডায় বছরে ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ে ৩ শতাংশ হারে কর দিতে হতো। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতো বলে অনুমান করা হয়েছিল।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া-ফিলিপ শাঁপাঞ্জ এক বিবৃতিতে জানান, ‘‘এই কর ২০২০ সালে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল, কারণ অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি কানাডায় কার্যক্রম চালালেও দেশটির রাজস্ব ব্যবস্থায় তারা পর্যাপ্ত কর দিচ্ছিল না। তবে ডিজিটাল করের বিষয়ে আমরা সর্বদা বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে ছিলাম।’’
বলা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এ ধরনের করের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে ‘চরম অন্যায়’ বলে অভিহিত করে বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে কানাডার ওপর আমাদের অনেক ক্ষমতা রয়েছে।”
কানাডার রপ্তানির ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়, যার বার্ষিক মূল্য ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৪ লাখ কোটি টাকার সমান।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদিত পণ্যের মাত্র ১৭ শতাংশ রপ্তানি হয় কানাডায়। এই আর্থিক ভারসাম্য থেকেই বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কানাডার অর্থনীতি কতটা নির্ভরশীল তাদের প্রতিবেশীর ওপর।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক টালমাটাল হয়ে পড়ে। এমনকি ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর তিনি কানাডার ওপর বড় শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রে সংযুক্ত করার কথাও বলেছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে কানাডার রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি আবারও ক্ষমতায় আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলে এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২১ জুলাইয়ের মধ্যে।