এই সফর অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক পরীক্ষা। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ছয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে চীনে পৌঁছেছেন। এই সফরে তার সঙ্গে দেশটির বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও রয়েছেন, যারা চীনের বাজারে নতুন বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজবেন।
সফরের শুরুতে আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া চায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের বিষয়েও অস্ট্রেলিয়া আপস করবে না। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান প্রসঙ্গ এবং আটক অস্ট্রেলীয় লেখক ইয়াং হেংজুনের মুক্তি নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
চীনে গিয়ে আলবানিজ শাংহাই ও বেইজিংয়ে বৈঠক করবেন। তার সঙ্গে রয়েছেন রিও টিন্টো, BHP, ফোর্টেস্কু মেটালসসহ শীর্ষ অস্ট্রেলীয় কোম্পানির নেতারা। তারা চীনের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা করবেন।
এদিকে, আলবানিজের সফরের সময় চীনা গোয়েন্দা জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার সামরিক মহড়ার কাছে উপস্থিত হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়ং এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যদিও আলবানিজ স্পষ্ট করেছেন, চীনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থেই প্রয়োজন।
সফরের অংশ হিসেবে আলবানিজ চীনের ‘পাণ্ডা কূটনীতি’তেও অংশ নেবেন। তিনি শেনচুতে চীনা পান্ডাদের দেখবেন এবং এই সম্পর্কের সাংস্কৃতিক দিকগুলোকেও গুরুত্ব দেবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে, আবার চীনের মতো প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। চীনের বাজার অস্ট্রেলিয়ার প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে, আলবানিজের চীন সফর শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়—একইসঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ