চীনা নজরদারি জাহাজগুলি অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়াগুলির কিছু পর্যবেক্ষণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলে চলমান বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টালিসমান সাব্রে’তে নজর রাখছে চীনের একটি গোয়েন্দা জাহাজ। এতে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘টালিসমান সাব্রে’ মহড়াটি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে যেখানে এবার অন্তত ৩০ হাজার সৈন্য অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশের সেনারা অংশ নিচ্ছে। মূলত সমুদ্র, আকাশ ও স্থলে সমন্বিত যুদ্ধ প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস নিশ্চিত করেছেন, মহড়ার কাছাকাছি চীনের একটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং সেটি ‘তথ্য ও সিগনাল’ সংগ্রহের কাজ করছে। তবে মার্লেস বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা খোলা সমুদ্রের মধ্যে এই মহড়া করছি, তাই এটি নতুন কিছু নয় যে অন্য দেশের জাহাজ এটি পর্যবেক্ষণ করবে। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকছি।’’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা চীনের সাধারণ কৌশলের অংশ হলেও এটি স্পষ্ট করে যে বেইজিং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই নজরদারি নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত অকাস (AUKUS) চুক্তির পর থেকে বেইজিং ক্রমেই অস্ট্রেলিয়ার দিকে কঠোর নজর রাখছে। অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক যত বড়, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বও ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, তারা এই নজরদারিকে “অপ্রত্যাশিত নয়” হিসেবে দেখছে এবং মহড়ায় অংশ নেওয়া সৈন্যদের নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক মহড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে চীনকে ঘিরে বাড়তে থাকা সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গিও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ নাইন নিউ