মহড়ার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক M142 HIMARS রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের শোয়ালওয়াটার বে অঞ্চলে শুরু হয়েছে বহুজাতিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘এক্সারসাইজ টালিসম্যান সেবার ২০২৫’। প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য এবং ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে এটি এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহড়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মহড়ার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক M142 HIMARS রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। শোয়ালওয়াটারের প্রশিক্ষণ এলাকায় একাধিক রকেট ছোড়ে এই লঞ্চার, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কানাডা, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশের বাহিনী অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষক হিসেবে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামসহ আরও কয়েকটি দেশও রয়েছে।
এবারের মহড়ায় চীনের নজরদারি নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, চীন প্রতিবছরের মতো এবারও মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা এবং কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

রবিবার রাতে সিডনিতে এক্সারসাইজ টালিসম্যান সেবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ। ছবি: অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স
রবিবার রাতে সিডনিতে HMAS Adelaide জাহাজে মহড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের (ADF) চিফ অব জয়েন্ট অপারেশন্স ভাইস অ্যাডমিরাল জাস্টিন জোন্স সাংবাদিকদের জানান:
আমি প্রত্যাশা করছি যে, চীনের পিপলস রিপাবলিক এই মহড়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে চাইবে। যদিও এখনো তাদের কোনো উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট চিহ্ন আমরা দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন:
তাদের উপস্থিতি আমাদের কাছে নতুন নয়। আমরা যে কোনো পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত এবং পরিকল্পনার মধ্যে তা অন্তর্ভুক্ত করেছি।”
ভাইস অ্যাডমিরাল জোন্স জানান, এই বিশাল মহড়ার প্রস্তুতিতে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দল ৭০০ দিন ধরে যৌথভাবে কাজ করেছে।
মহড়াটি শুধু কুইন্সল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের উত্তর ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং পাপুয়া নিউ গিনি পর্যন্ত বিস্তৃত এই মহড়ায় আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে সমন্বিত সামরিক মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধজাহাজ, বিমান, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ বাহিনী অংশ নিয়েছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো পাপুয়া নিউ গিনি উপকূলে একটি বিশেষ যৌথ উদ্ধার অভিযানের মহড়া আয়োজন করা হবে। ভাইস অ্যাডমিরাল জোন্স এই অংশটিকে “জয়েন্ট পার্সোনেল রিকভারি এক্সারসাইজ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
‘এক্সারসাইজ টালিসম্যান সেবার’ মহড়া মূলত পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আয়োজন করা হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু অস্ত্র ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং সামরিক কৌশল, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে একটি বড় পদক্ষেপ।
সুত্রঃ নাইন নিউজ