অষ্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে বাড়ির দাম। ছবিঃ এবিসি নিউজ
মেলবোর্ন, ৩ সেপ্টেম্বর- রাবোব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ম্যাক্রো বিশ্লেষক বেন পিকটন সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে দেওয়া নোটে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি “অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে” নতুনভাবে গড়ে উঠছে, যেখানে ফেডারেল রিজার্ভসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর নিরপেক্ষ থাকছে না। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠদের ফেডে বসাচ্ছেন, যেমনভাবে সুপ্রিম কোর্টেও করেছেন। পিকটনের মতে, টাকার দাম বা সুদের হার নির্ধারণও রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে, আর জাতীয় নীতির সব দিকই এখন “আমেরিকাকে আবার মহান করার” রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন দিচ্ছে।
তিনি লেখেন, “যেভাবে আইনের ব্যাখ্যা রাজনৈতিক, টাকার দামও তেমন রাজনৈতিক। পুরোনো ধারণা—যে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোকে জনগণের ইচ্ছা থেকে আলাদা রাখা জরুরি—এখন আর সুরক্ষা দিচ্ছে না।”
এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারের সমালোচনা করেন। রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমানোয় অতি ব্যয়বহুল বাজারে নতুন করে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে মানুষ দলে দলে বাড়ি কিনছে। ইউবিএসের সর্বশেষ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টে দেখা গেছে, গড় পারিবারিক সম্পদের হিসেবে অস্ট্রেলিয়া কেবল লুক্সেমবার্গের পরেই আছে। কিন্তু এর ৫৩ শতাংশই রিয়েল এস্টেট নির্ভর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার মাত্র ৩০ শতাংশ। পিকটনের মতে, এই সম্পদ অনেকটাই ভ্রমাত্মক, বাজার ভেঙে পড়লে সহজেই হারিয়ে যেতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি আলবানিজ সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। নতুন “হোম গ্যারান্টি স্কিম” অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা মাত্র ৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই ঋণ নিতে পারবেন। এর জন্য আয়ের সীমা ও বার্ষিক কোটা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়ির দামের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারির হিসাবে, এ পরিকল্পনার ফলে প্রথম বছরেই অতিরিক্ত ২০ হাজার গ্যারান্টি দেওয়া হবে। এতে ভাড়াটেরা দ্রুত বাড়ি কিনতে পারবে এবং ভাড়ায় গুনতে হওয়া ৮৭ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি মূলত আরও এক ধাপ “ফাইন্যান্সিয়ালাইজেশন”, যা আবাসন বাজারকে অস্বাভাবিকভাবে ফোলাচ্ছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ