দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক ৯ শতাধিক
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অভিবাসনবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নয় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে…
মেলবোর্ন, ৭ সেপ্টেম্বর- ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে লন্ডনে ৪০০-র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেন বলে জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস। অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় বসে “আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন।
শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করতে থাকে। এ সময় উপস্থিত জনতা স্লোগান দেন—“শেম অন ইউ” এবং “মেট পুলিশ, একপক্ষ বেছে নাও—ন্যায়বিচার নাকি গণহত্যা।” অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে শুয়ে পড়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের জোর করে সরিয়ে নেয়।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেন। ছবিঃ এপি
প্রায় আট ঘণ্টা পর পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪২৫ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২৫ জনকে পুলিশকে আঘাত বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে টেররিজম অ্যাক্ট ভঙ্গের।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ক্লেয়ার স্মার্ট বলেন, “আজ দায়িত্ব পালনকালে আমাদের কর্মকর্তাদের ঘুষি মারা হয়েছে, লাথি মারা হয়েছে, থুতু ছোড়া হয়েছে এবং জিনিসপত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ধরনের নির্যাতন সহ্যযোগ্য নয়।”
তবে আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস পুলিশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সহিংস আচরণ এসেছে পুলিশের দিক থেকেই। তারা এ অভিযোগকে “হাস্যকর” বলে আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলো থেকে ৭০০-রও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে টেররিজম অ্যাক্টে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করতে থাকে। ছবিঃ রয়টার্স
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন ৬২ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মাইক হিগিনস। তিনি আগেও টেররিজম অ্যাক্টে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। শনিবারও তিনি বিক্ষোভে যোগ দেন এবং বলেন, “আমি কি তাহলে সন্ত্রাসী? এটাই আসল কৌতুক। আমি আবার গ্রেপ্তার হব বলে ধারণা করছি। তবুও বারবার আসব। আমার আর উপায় কী?”
কেন নিষিদ্ধ হলো প্যালেস্টাইন অ্যাকশন?
গত জুলাই মাসে একদল কর্মী রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ঢুকে দুটি ট্যাঙ্কার বিমানে রঙ ছিটানো এবং ভাঙচুর চালানোর পর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে সরকার। সরকারের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এতে কোটি কোটি পাউন্ডের ক্ষতি হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।
২০২০ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সরাসরি অভিযান চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমস ইউকে-র বিভিন্ন কারখানা লক্ষ্য করে। তারা বিশ্বাস করে এসব প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় বসে “আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন। ছবিঃ রয়টার্স
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করার সময় বলেন, “এটি শান্তিপূর্ণ সংগঠন নয়—তা খুবই স্পষ্ট।”
আদালতে চ্যালেঞ্জ, সমালোচনা বাড়ছে
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এই আইন “সন্ত্রাসবাদের গুরুত্ব ও প্রভাবকে অপব্যবহার” করছে এবং এতে যুক্তরাজ্যে মৌলিক স্বাধীনতা চর্চা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আমমোরি নিষেধাজ্ঞাকে “নাগরিক স্বাধীনতার জন্য বিপর্যয়কর” বলে মন্তব্য করেছেন। জনপ্রিয় আইরিশ লেখক স্যালি রুনিসহ বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল গাজার হামাসবিরোধী অভিযানে লড়ছে।
ব্রিটিশ সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অন্য কোনো বৈধ সংগঠন বা শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশকারী প্রো-প্যালেস্টাইন বা প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে না।
একই দিন লন্ডনে আরেকটি প্রো-প্যালেস্টাইন মিছিলে পুলিশের হিসাবে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au