তাইওয়ান প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমা অতিক্রম করেছে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ সেপ্টেম্বর- তাইওয়ান প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমা অতিক্রম করেছে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা “সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা ও উসকানি” হিসেবে দেখছে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানায়, কানাডার যুদ্ধজাহাজ ভিল দ্য কুবেক এবং অস্ট্রেলিয়ার গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ ব্রিসবেন প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এ সময় চীনা সেনারা যুদ্ধজাহাজ দুটিকে অনুসরণ ও সতর্ক করেছে। পিএলএর বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রোববার জানান, রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নেভির এইচএমএএস ব্রিসবেন ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করেছে। তিনি দাবি করেন, এটি নিয়মিত নৌ চলাচলের অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হয়েছে। একই সময়ে কানাডার এইচএমসিএস ভিল দ্য কুবেকও প্রণালিটি পার হয়। মুখপাত্র বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নৌ ও বিমানবাহিনী আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখবে এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন মেনে চলবে।
কানাডার সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে তাইওয়ান প্রণালিতে থাকা তাদের জাহাজগুলোর যাত্রাপথ নিয়ে মন্তব্য করা হবে না। তবে ভিল দ্য কুবেক বর্তমানে “অপারেশন হরাইজন”-এ অংশ নিচ্ছে, যার উদ্দেশ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা। কানাডার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিলিপাইনের অর্থনৈতিক অঞ্চলে নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল।
অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা প্রণালির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
তাইওয়ান প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও নিয়মিত সক্রিয়। তাদের নৌবাহিনী প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রণালিটি অতিক্রম করে। মাঝে মাঝে কানাডা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজও যুক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ এসব দেশ তাইওয়ান প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জলপথ বলে মনে করে।
কিন্তু চীন দাবি করে, তাইওয়ান প্রণালি তার আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে, যদিও তাইওয়ান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত পাঁচ বছরে দ্বীপটির ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়েছে চীন এবং নিয়মিত যুদ্ধ মহড়া চালাচ্ছে প্রণালিটির কাছাকাছি অঞ্চলে।
ছবিঃ রয়টার্স