গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন বাহিনী হামাস। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৮ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি গাজা যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইসরায়েল নাকি সেটি মেনে নিয়েছে। তবে এখনো হামাস সেই শর্ত মেনে নেয়নি।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হামাসকে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন এবং তা না মানলে কী ধরনের “পরিণতি” হতে পারে তাও জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি এটিকে হামাসের প্রতি তার “শেষ সতর্কবার্তা” হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: বিবিসি
ট্রাম্প লিখেছেন, “সবারই চাই বন্দিদের মুক্তি হোক, সবারই চাই যুদ্ধ শেষ হোক। ইসরায়েল আমার শর্ত মেনে নিয়েছে। এবার হামাসেরও মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। আমি হামাসকে সতর্ক করেছি, আর কোনো সতর্কবার্তা আসবে না।”
তবে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলো আসলে কী, তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। এর আগেও তিনি একাধিকবার হামাসকে মৌখিকভাবে হুমকি দিয়েছেন এবং বলেছেন যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। গত ২৫ আগস্ট ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের “চূড়ান্ত সমাপ্তি” ঘটবে।
অন্যদিকে, হামাস বারবার বলছে, যুদ্ধবিরতির জন্য তারা বন্দি বিনিময় চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবি তুলেছে। গত মাসে তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিও মেনে নিয়েছিল।
ট্রাম্পের বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন ইসরায়েল গাজা নগরীর দখল নিতে নতুন করে হামলা জোরদার করেছে। এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। গত সপ্তাহেই তার প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী কিছু মানবাধিকার সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কারণ তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তে সহযোগিতা করছিল।
এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, গাজার সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন “মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা” তৈরি করা উচিত। এই পরিকল্পনাকে মানবাধিকারকর্মীরা জাতিগত নিধনের প্রচেষ্টা বলে নিন্দা করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

২৭শে মে, ইসরায়েল থেকে দেখা যাচ্ছে উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের একটি দৃশ্য। ছবিঃ রয়টার্স
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখে মানুষকে “স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া”র সুযোগ দেওয়া কোনো বাস্তব বিকল্প নয়, বরং এটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।
এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং পুরো ভূখণ্ডের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স