ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। ছবিঃ এপি
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পদচ্যুত হয়েছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ভোটাভুটিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানায় দেশটির সংসদ সদস্যদের বড় অংশ। এর ফলে মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালনের পরই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হচ্ছে।
আস্থা ভোটে বাইরুকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন ৩৬৪ জন সংসদ সদস্য। বিপক্ষে ভোট দেন ১৯৪ জন, আর ২৫ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরোধিতায় সরকারের পতন এখন কার্যত নিশ্চিত।
প্রধানমন্ত্রী বাইরু নিজেই এই আস্থা ভোটের উদ্যোগ নেন। উদ্দেশ্য ছিল সরকারের জাতীয় ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার প্রতি সংসদের পূর্ণ সমর্থন আদায় করা। কিন্তু ভোটাভুটির ফল তাঁর আশা ভঙ্গ করেছে। ভোটের আগে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বাইরু বলেন,
“সরকারকে টেনে নামানোর ক্ষমতা আপনাদের আছে, কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা নেই। খরচ বেড়েই চলবে। ঋণের বোঝা এখনই অসহনীয় হয়ে উঠেছে, সামনে আরও বাড়বে। এভাবে চলতে থাকলে ফ্রান্সের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
বাইরুর পতনের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র হলো। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ একের পর এক সরকার প্রধান পরিবর্তনের চাপে পড়েছেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তাঁকে এখন পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মাখোঁর নেতৃত্বকে দুর্বল করে তুলছে। ফ্রান্সের জনগণ একদিকে অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, অন্যদিকে সরকারে স্থিতিশীলতা নেই। ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয় সংকোচনের মতো নীতি সংসদে সমর্থন পাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাইরুর পদচ্যুতি শুধু মাখোঁর জন্য নয়, ফ্রান্সের সার্বিক রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও বড় অনিশ্চয়তার বার্তা বহন করছে।
সুত্রঃ রয়টার্স