সেনার পরিবর্তে গাজায় ইসরায়েলের ‘বিস্ফোরক রোবট’ অভিযান । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- গাজা উপত্যকায় স্থলসেনা না পাঠিয়ে নতুন যুদ্ধকৌশল নিয়েছে ইসরায়েল। গাজা শহরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরাসরি সেনা মোতায়েনের বদলে তারা ব্যবহার করছে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকভর্তি রোবট বা আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি)। এই নতুন ধরনের হামলায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জনবসতিপূর্ণ গাজা শহরে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নতুন এই রোবট মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিরাতেই তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে শহর।
এই যানগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়। লক্ষ্যস্থলে পৌঁছেই এগুলো বিস্ফোরিত হয়, ফলে মুহূর্তে ধসে পড়ে আবাসিক ভবন। কখনও আবার এ রোবটগুলো রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরকভর্তি ব্যারেল ফেলে রেখে যায়। পরে সেগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি করে।
ফিলিস্তিনি যুবক হামজা শাবান জানান, সাধারণত রাত ১০টা বা ১১টার দিকে, যখন মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে, তখনই হামলা শুরু হয়। প্রায় প্রতিরাতেই ৮ থেকে ১০টি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তার ভাষায়,
“আমি ইসরায়েলের এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের হামলাও দেখেছি। কিন্তু এসব রোবটের ধ্বংসযজ্ঞ আলাদা। বিমান হামলার চেয়েও এগুলো অনেক বেশি বিধ্বংসী। পুরো ভবন মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।”
গাজাভিত্তিক সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০টি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করেছে ইসরায়েল।
অলাভজনক সংস্থা ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের প্রতিবেদন বলছে—
- প্রতিটি রোবটে থাকে প্রায় সাত টন পর্যন্ত বিস্ফোরক।
- প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস হচ্ছে এসব হামলায়।
এই ধ্বংসযজ্ঞে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল সেনাদের প্রাণহানি এড়াতে রোবট ব্যবহার করছে। কিন্তু এর ফলে জনবহুল এলাকায় নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ নামছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল।