বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রকাশিত একটি সাক্ষাতকারকে কেন্দ্র করে। ভারতের কলকাতার বাংলা সংবাদপত্র এই সময় প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর এনসিপি, জামায়েত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে, বিএনপির দাবি সাক্ষাতকারের কিছু অংশ বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র ভূমিকা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এই সময়কে যা বলেছেন মীর্জা ফকরুল
সম্প্রতি ঢাকার গুলশনে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে এই সময়–এর সাংবাদিক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের কোনো সংশয় নেই এবং ভোটে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেবে। ভোটের পদ্ধতি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হবে, অর্থাৎ কোনো প্রকার পিআর বা টিআর–ভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগ হবে না।

কলকাতার পত্রিকা এই সময়-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকার। ছবিঃ সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল এনসিপি–কে আর কোনো রাজনৈতিক শক্তি মনে করেন না। অতীতে তাদের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই প্রভাব বর্তমানে নেই। জামায়াতের ৩০টি আসনের দাবি থাকলেও বিএনপি জামায়াতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবে না। তিনি জানিয়েছেন, জামায়াত নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। দেশের জনগণ নির্বাচনের প্রবলভাবে সমর্থক এবং সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেছেন, তবে বিএনপি–জামায়াতকে একসাথে দেখার ধারণা তিনি ভুল বলছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পূর্বের তুলনায় ভিন্ন হবে। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী এবং গণতান্ত্রিক দল, যা স্বাধীনতা-বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।
সাক্ষাতকার প্রকাশের পর যা বলছে বিএনপি
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পত্রিকা প্রথম আলো–তে প্রকাশিত সংবাদে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতের এই সময়–এর সাক্ষাৎকারের কিছু অংশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন এক বন্ধনীতে রাখছে, প্রশ্ন মির্জার’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সাক্ষাৎকারের কিছু বক্তব্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এনসিপি নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পত্রিকা প্রথম আলো–তে প্রকাশিত সংবাদ।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা মির্জা ফখরুল এই সাক্ষাৎকারে এই ধরনের বক্তব্য দেননি। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সময়–এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছাপা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ভুল ও বিভ্রান্তিকর।