ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস: শিগগিরই মিলছে চালুর নির্দিষ্ট তারিখ
ঢাকা-কলকাতা রুটে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ট্রেনটি কবে…
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “পিআর মানে হলো স্থায়ী অস্থিরতা। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ বা অসাংবিধানিক দাবি জাতিকে সংকটে ফেলতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি পিআর ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। এতে যারা দেশকে অনিশ্চয়তায় রাখতে চায় তারাই লাভবান হবে।”
বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন তোলেন, “আমরা তো স্বৈরতন্ত্রের অবসানের জন্য জীবন দিয়েছি। এখন কি পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে আবার সেটি ফিরিয়ে আনা হবে? এই ব্যবস্থায় ভোট দিলে জনগণ জানবেই না কে এমপি হবে। সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষ নেতা—সভাপতি, সম্পাদক, স্থায়ী কমিটি বা মজলিশে শুরা। এভাবেই দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটারদের গুরুত্ব এবং তাদের নির্বাচনের অধিকার হারিয়ে যাবে যদি শুধু দলীয় নেতারাই নির্ধারণ করেন কে সংসদ সদস্য হবেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “১৯৭০ সাল থেকে আমরা সরাসরি ভোট—‘একজন মানুষ, একটি ভোট’—ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করেছি। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন যদি PR চালু করা হয়, তবে সেই ব্যবস্থা ধ্বংস হবে। দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রভাব বিস্তার করবে, একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্রও শক্তিশালী হবে। দলীয় নেতাদের পছন্দের মানুষ এমপি হবেন, জনগণের পছন্দ তখন আর কোনো গুরুত্ব পাবে না। ভোট কেবল দেওয়া যাবে, কিন্তু প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের কোনো ভূমিকা থাকবে না।”
তিনি সমালোচনা করে বলেন, পিআর নিয়ে করা জরিপগুলো বিভ্রান্তিকর। “এক জরিপে বলা হচ্ছে ৫৬ শতাংশ মানুষই PR বোঝে না। অথচ আরেক জরিপ দাবি করছে ৭০ শতাংশ মানুষ PR চায়। যারা বোঝেই না, তারা আবার কীভাবে এটি চাইতে পারে? এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, PR চালু হলে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ দুর্বল হয়ে পড়বে। “যদি জনগণ আগে থেকে না জানে কোন প্রার্থী নির্বাচিত হবে, তাহলে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক সম্পৃক্ততা কোথায়? নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা তখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সামাজিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং নির্বাচনী ইতিহাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সুত্রঃ দ্য বিসনেস স্ট্যান্ডার্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au