হরমুজ প্রণালিতে নতুন করিডোর চালু করল ওমান
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা…
মেলবোর্ন, ১৯ অক্টোবর- কয়েকদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ ও বিমান হামলার পর কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দুইপক্ষই এখনই কার্যকরী তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক প্রেস স্টেটমেন্টে এ তথ্য জানানো হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রয়েছেন দুদেশের উচ্চস্তরের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদল আফগান পক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুব নেতৃত্ব দেন, এবং পাকিস্তান পক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা মুহাম্মদ আসিফ নেতৃত্বদানী করেছেন। কাতার ও তুরস্ক আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে বলে দোহা-স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং দুইপক্ষই সহিংসতা বন্ধ, সশস্ত্র-দলের সমর্থন শিথিলকরণ ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া চুক্তির বাস্তবায়ন যাচাই করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের ওপর সম্মতি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে গর্মাজনক সীমান্ত সংঘাতে কয়েক দশক মানুষের প্রাণহানি ও শতাধিক আহতের খবর আসে; বিশেষত প্যাকতিকা প্রোভিন্স ও সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি বিমান হামলা ও জবাবী গোলাবারুদ বিনিময়ের রিপোর্ট ছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে কাতার ও তুরস্ক তৎপর হয়ে দোহায় আলোচনার উদ্যোগ নেয়। সংঘর্ষের ফলে স্থানীয় নাগরিক ব্যবস্থায় বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটেছে এবং আফগান ক্রিকেট বোর্ড পর্যন্ত পাকিস্তানে খেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
দোহা আলোচনার পরে কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুইদেশ সম্মত হয়েছেন পরবর্তী কয়েক দিনে কয়েকটি অনুসরণী বৈঠক করে যুদ্ধবিরতির টেকসই বাস্তবায়ন, সীমান্তে বার্তা বিনিময় এবং বিশেষ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল প্রতিরোধ সংক্রান্ত কার্যকর তন্ত্র স্থাপনের উপায় নির্ধারণে। একটি ফলো-আপ মিটিং ইস্তানবুলে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচি দুইপক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
আফগান পক্ষের মুখপাত্র এবং পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উভয়ই দপ্তর সরকারি বিবৃতিতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং দুই দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন মূল সমস্যাগুলো (যেমন সীমান্তের সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও গোয়েন্দা-স্তরের অভিযোগ) অতি দ্রুত সমাধান হবে না; তাই এটি আপাতত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ।
পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শিথিল হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি কিভাবে গড়ে তোলা যায় তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দুইপক্ষের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ, সীমান্তে কার্যকর নজরদারি, এবং ত্যাগসহ প্রাদেশিক মূল ইস্যু সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমন্বয় অপরিহার্য এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া বলে নীতিবিদরা মনে করছেন।
কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে; দুইপক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন ও দ্রুত ফলো-আপ বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে যেসব গভীর সমস্যা রয়ে গেছে তারা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা পুনরায় রাশ নিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au