ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৬ অক্টোবর- ঢাকার মেট্রোরেলে এক বছরের ব্যবধানে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় এখন মানুষের কৌতূহল ও উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিয়ারিং প্যাড। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্মগেটে একটি বিয়ারিং প্যাড নিচে পড়ে পড়লে ট্রেন চলাচল ১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। যদিও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, বিষয়টি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঠিক একইভাবে চলতি বছর আবার ফার্মগেটে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে, তবে এবার সেটি প্রাণঘাতী হয়। প্রায় দেড়শ কেজি ওজনের প্যাড পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মেট্রোরেলের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ও পিলারের মাঝামাঝি স্থানে থাকা রাবার ও ইস্পাতের তৈরি পুরু আয়তাকার প্লেটই হলো বিয়ারিং প্যাড। এর কাজ হচ্ছে ভায়াডাক্ট ও পিলারের মাঝে ঘর্ষণ রোধ করা, কম্পন শোষণ করা এবং পুরো কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। মেট্রোরেলের প্রতিটি স্প্যানের নিচে চারটি বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলো কোনো নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো নয়, বরং ওপরের কাঠামোর ভারে জায়গায় স্থির থাকে। প্রতিটি স্প্যানের ওজন কয়েকশ টন হওয়ায় এগুলো সরে যাওয়া স্বাভাবিকভাবে কঠিন, তাই প্যাড খুলে পড়া বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক।

মেট্রোরেলের একটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞ ও ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, এর পেছনে নকশাগত ত্রুটি থাকতে পারে। মেট্রোরেলের নকশা তৈরি করেছে জাপানের এনকেডিএম অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হকের মতে, যদি এই প্যাড পড়ে গিয়ে মানুষের মৃত্যু হয়, তবে ‘ডিজাইন ত্রুটি’ বা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, যেখানে কম্পনের চাপ থাকে, সেখানে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরীক্ষা থাকা উচিত ছিল।
আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ফার্মগেট অঞ্চলের রেললাইনটি কিছুটা বাঁকানো ও উঁচু। এই জায়গাটি বিজয় সরণির তুলনায় বেশি উচ্চতায় এবং জ্যামিতিকভাবে জটিল। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হলেও এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল।
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, দুটি দুর্ঘটনা একদম একই পিলারে হয়নি। গত বছর বিয়ারিং প্যাড পড়েছিল ৪৩০ নম্বর পিলার থেকে, আর এবার পড়েছে ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে। তবে দুটোই ফার্মগেট অঞ্চলে এবং কাছাকাছি স্থানে ঘটেছে, যা ইঙ্গিত করে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং কাঠামোগত বা নকশাগত সমস্যা থাকতে পারে।

মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
ঘটনার পরপরই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, নকশাগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যর্থতা বা মানবিক অবহেলা সবই খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এটি নাশকতা কিনা, সেটাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকার ট্রাফিক সমস্যার একটি বড় সমাধান হিসেবে মেট্রোরেলকে দেখা হয়। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ যাতায়াত করেন এই পরিবহনে। তাই মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন এবং শহরের যানজট আরও বেড়ে যায়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের ব্যয় এখন ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এত বড় বিনিয়োগের পরও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।
বাংলাদেশে নির্মিত সবচেয়ে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় একের পর এক দুর্ঘটনা হতেই থাকলে এর নিরাপত্তা মান, নকশা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাবে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট জরুরি।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au