ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তিনি “খুব দ্রুত” সমাধান করে দেবেন, এমন মন্তব্য এমন সময় করেছেন যখন দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে।
ট্রাম্প তাঁর মন্তব্যগুলো দিয়েছেন এশিয়ান অঞ্চলের এক সামিট (ASEAN) সুযোগে মালয়েশিয়ায়, যেখানে তিনি পাকিস্তানি নেতৃত্বকে প্রশংসা করেছেন এবং আগে ভারত–পাকিস্তান কূটনৈতিক শান্তি তৈরিতে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি শুনেছি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সমস্যা শুরু হয়েছে -আমি সেটা খুব দ্রুত সমাধান করে দেব।” তাঁর এই প্রতিশ্রুতি সংবাদ সম্মেলন ও সামিটের মঞ্চে করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ ও বিমান হামলা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হয়। গত কয়েক সপ্তাহে সীমান্তীয় সংঘাতে বহু সৈন্য ও বিদ্রোহী নিহত হওয়ার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উত্থাপন করেছে; জাতিসংঘ ওই সংঘর্ষে অসংখ্য হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে এবং বিরতিসহ স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যেই ইস্তানবুলে দুই দেশের দ্বিতীয় রাউন্ড শান্তি আলোচনা শুরু করা হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা বন্ধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উঠেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বার্তা বলছে যে তিনি যদি আলোচকরা নিজে সমাধান না করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করে দ্রুত শান্তি নিশ্চিত করবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলে বলেছেন যে গোলার্ধীয় মধ্যস্থতায় নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, বিমানসীমার সম্মান এবং সীমান্ত বিদ্রোহী কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গঠনের মত প্রস্তাব উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত বিভাজন, জমি সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হালচাল-এসব কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল করা সহজ হবে না। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে যে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী দলগুলো অনুপ্রবেশ করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে; অপরদিকে আফগান পক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা উভয় পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই গভীর অবিশ্বাস ও নিরাপত্তা ঘাঁটায় জটিলে দ্রুত সমাধান আনতে মধ্যস্থতা কার্যকরী হলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও আস্থা গঠনের প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতিকে কূটনীতিকেরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন – কেউ বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সহায়ক হতে পারে, আবার অনেকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে কোনো তৎপর উদ্যোগ যদি স্থানীয় বাস্তবতা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাকে ছাড়িয়ে যায় তাহলে তা টেকসই সমাধান দিতে ব্যর্থ হতে পারে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ না হলে এবং স্থায়ী শান্তি কাঠামো গঠন না হলে সীমান্ত অঞ্চলে দূরবর্তীভাবে অস্খলনের আশঙ্কা থাকবে, যা তাত্ক্ষণিক মানবাধিকার অবস্থা ও দড়িয়ে থাকা দু’দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ট্রাম্পের “খুব দ্রুত” সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক স্তরে সমস্যা মেটাতে একটি তৎপর উদ্যোগ নেয়া হবে; কিন্তু স্থায়ী শান্তি কেবল উচ্চ পর্যায়ের প্রতিজ্ঞা দিয়ে নয় সীমান্ত পর্যায়ে নজরদারি, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা, এবং আস্থাভিত্তিক রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। ইস্তানবুলে চলমান আলোচনার ফল ও ট্রাম্পের মধ্যস্থতা পদক্ষেপ কেমন প্রভাব ফেলবে এটি আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক কর্মধারায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au