ঢাকায় চালু হচ্ছে পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই পাস…
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী ১০ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর শুক্রবার এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
চুক্তি সম্পর্কে এক্স হ্যান্ডেলে পিট হেগসেথ লিখেছেন, এটি দুই দেশের মধ্যে “সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা” আরও বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা” গড়ে তুলতেও এটি ভূমিকা রাখবে।
এই চুক্তি এমন সময় স্বাক্ষরিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে উভয় দেশ নতুন বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোচ্ছে।
অংশীদারিত্বের নতুন দশক
ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্সে লিখেছেন, “কৌশলগত দিক থেকে আমরা আরও কাছাকাছি আসছি, এই চুক্তি তারই প্রতিফলন। এটি অংশীদারিত্বের এক নতুন দশক শুরু করল। প্রতিরক্ষা খাত আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং নিয়মভিত্তিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিলম্বের কারণ
থিংক ট্যাংক ‘ইউরেশিয়া গ্রুপ’-এর বিশ্লেষক প্রমিত পাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি মূলত জুলাই বা আগস্ট মাসেই স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একাধিক মন্তব্যে নয়াদিল্লির বিরক্তি তৈরি হওয়ায় তা বিলম্বিত হয়।
তার মতে, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমনিতেই বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে, যেগুলোর লক্ষ্য সামরিক বাহিনীর মধ্যে আদান-প্রদান সহজ করা, প্রযুক্তিতে ভারতের প্রবেশাধিকারের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এবং যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা। নতুন এই চুক্তি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ এবং এই তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।”
ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।
ট্রাম্প তখন ঘোষণা করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করবে। সেই সময় ভারতের হাতে আসে আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
তবে ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনা ও মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, দিল্লি সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে জোর দিচ্ছে।
ভারত ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি ও সামরিক খাতে আমদানি আরও বাড়াতে আগ্রহী, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au