দ্যা নিউজ সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের উপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- দ্যা নিউজ ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক প্রমিথিয়াস চৌধুরীর উপর হামলা ও বার্তা সম্পাদক তৃণা রায় চৌধুরীর উপর হুমকির প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের এই মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনাটিকে কটূপরামর্শ, ধর্মীয় ট্যাগ এবং অপপ্রচারকে কাজে লাগিয়ে করা প্রকাশ্য নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায়।
প্রতিবাদে বক্তারা বলেন, মেলবোর্ন ভিত্তিক সাইট নয়, দ্যা নিউজ ডটকম সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে গত ১৪ বছর ধরে তথ্যসেবা দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, সম্পাদক প্রমিথিয়াস চৌধুরী স্থানীয়ভাবে নানা সেবামূলক কাজ করে আসছেন। এর পরও গত ২৯ অক্টোবর বাশাইল বাজারে একরকম পরিকল্পিতভাবে তাকে অপমান, জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা ও ব্যাংক চেক পাতা ও পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধনে এসব ঘটনা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে উপস্থিতরা অভিযোগ করেন, বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার পশ্চিম গোয়াইল গ্রামে প্রমিথিয়াস চৌধুরীর পৈত্রিক বাড়ির আশ্রমে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আশ্রয়সেবা উপলব্ধ থাকায় সম্প্রদায়ভিত্তিক বিরোধী অংশ কিছু লোক তাকে টার্গেট করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে নিজাম মোল্লা হালান ও সাহানুর ওরফে শাহিন পেদা নামে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে থাকা অবস্থায় তারা অন্যদের সঙ্গে মিলে প্রলেপ দিয়ে তাকে ইসকন নেতাকে উপাধি দিয়ে কটূক্তি করেছে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। পরে কাগজপত্রে সই নেয়ার জোর ও ব্যাংকের চেক পাতার ফটোকপি নেয়ার দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সম্পাদক তৃণা রায় চৌধুরী বলেন, সম্পাদক প্রমিথিয়াস চৌধুরী সহজ জীবন-যাপনকারী, নিজ বাড়ীর সেবামূলক কাজের কারণে গ্রামে বেশি সময় কাটান। তিনি বলেন, “সম্পাদককে খোলা বাজারে মারধর ও গালি করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে গ্যাং রেপের হুমকির কথাও বলা হয়েছে। একজন নারীকে এ ধরনের হুমকি আমরা মেনে নেব না।” মানববন্ধনে উপস্থিত নারীরা তৃণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ অনতিবিলম্বে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামাজিক মাধ্যম ও মৌখিকভাবে অকারণে কোনো ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে কলঙ্কিত করার ঘটনা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাচাই না করে ইসকন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা ধর্মীয় ট্যাগ লাগিয়ে অপপ্রচার ও হুমকি-নির্যাতন সমাজে সহনীয় নয়।
উপস্থিতরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফখরুল ইসলাম মামুনের নামও উঠে এসেছে। তারা সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি ও যেকোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
সমাবেশে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রবীণরা অংশগ্রহণ করেন। শেষ বক্তৃতায় তারা সরকারের কাছে আবেদন করেন, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং শব্দচ্ছলতা আর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে কাউকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা বন্ধ করা হোক। সভায় অংশ নেওয়া সাধারণ জনগণ দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানায়।