ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- দীর্ঘ ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন দেশটির জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আসাদের বিদায়ের পরই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে প্রতিবেশী তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্কেও। দুই দেশ, যারা এতদিন বৈরিতার বন্ধনে জড়িত ছিল, এখন সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।
আল-আসাদের পতনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তুরস্ক দামেস্কে কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় চালু করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সিরীয় সরকারকে সহায়তা করার জন্য “গঠনমূলক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে” সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তুরস্ক ইতোমধ্যে সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিদ্যুৎ, সড়ক, বন্দর ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে তুর্কি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা থাকবে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি আলোচনাধীন রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর (ওয়াইপিজি) উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন সিরীয় প্রশাসন সেই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। তুরস্ক চাইছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সরিয়ে সীমানা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং সিরীয় শরণার্থীদের ধীরে ধীরে প্রত্যাবাসন সম্ভব করা হোক।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব অনেক বেড়েছে। গৃহযুদ্ধের সময় বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিল তুরস্ক; এবার তারা শান্তিপূর্ণ পুনর্গঠনের অংশীদার হতে চায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
একজন তুর্কি কূটনীতিকের ভাষায়,
“আমরা আর শত্রু নই, বরং প্রতিবেশী যাদের স্বার্থ এখন অনেক দিকেই মিলিত।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সম্পর্ক যদি টিকে থাকে, তবে সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। তবে কুর্দি ইস্যু, রুশ প্রভাব, এবং ইরানের অবস্থান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বর্তমানে দুই দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছে। যদি এই সহযোগিতা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনরায় অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে আর তুরস্ক পাবে নতুন আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্র।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au