নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…
মেলবোর্ন, ৭ নভেম্বর- গত বছর ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকা ছাড়ার পর প্রায় পনেরো মাসে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী ওই সময় “নিশ্চয়ই কিছু ভুল করেছে।” ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বছরের পরিস্থিতি ছিল “অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সহিংস,” যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা মাঠে দ্রুত পরিবর্তনশীল ও সহিংস পরিস্থিতিতে সাড়া দিচ্ছিলেন। কিছু সদস্যের প্রতিক্রিয়ায় ভুল হয়েছিল, কিন্তু সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল অনুপাতিক, সৎ উদ্দেশ্যে এবং মানুষের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যেই।”
শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৫ দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন, তখন ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই বিদ্রোহে শতাধিক মানুষ নিহত হন এবং দেশেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না নির্বাচনের প্রস্তুতি সঠিকভাবে চলছে। যদি নির্বাচন হয়ও, তা বৈধতা পাবে না, কারণ আওয়ামী লীগ এখনও নিষিদ্ধ।”
তবে তিনি সমর্থকদের ভোটবর্জনের আহ্বান জানাননি এবং আরও কোনো সহিংস বিদ্রোহ বা সংঘর্ষের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, “ভবিষ্যতে যদি সহিংসতা ঘটে, তা দেশের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হবে। তাই আমি সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছি।”
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ১,৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শেখ হাসিনা এবার প্রথমবার স্বীকার করলেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ “ত্রুটিমুক্ত ছিল না।”
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, বিশেষ করে নির্বাচন আয়োজন ও সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে।
সুত্রঃ দ্য হিন্দু
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au