স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১৩ নভেম্বর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা সংহত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পরে তিনি এসব কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। সব বাহিনীর প্রশিক্ষণ খুব তাড়াতাড়ি শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে একটি মহড়াও দেওয়া হবে। তিনি সকলে অনুরোধ করে বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। সরকার সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেবে না।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্যে বলা হয়, বিশেষ করে ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল এলাকা, রেলওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাবলি রোধে রাস্তার পাশে খোলা তেল বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব তেলের অপব্যবহার করে অঘটন ঘটানো হয়ে থাকে।
তিনি জানান, সরকারি পরিকল্পনায় বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়া চলছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজ আরও বেগবান করা হবে, কারণ এখনও কিছু অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে এবং সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করতে সম্পর্কিত সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মাদকের ঘটনায় আরাকান থেকে চালান কিছুটা কমলেও তা সন্তোষজনক নয়, তাই মাদক নির্মূল করা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনে কত সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন থাকবে, প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, চূড়ান্ত সংখ্যা শেষ মুহূর্তে জানানো হবে, তবে সম্ভাব্য হিসেবে অনুমান করা হয়েছে দেড় লাখ পুলিশ, প্রায় এক লাখ সেনা সদস্য, ৩৫ হাজার বিজিবি, সাড়ে পাঁচ লাখ আনসার সদস্য এবং প্রায় চার হাজার নৌবাহিনী সদস্য থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বাসে আগুনানো ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব घटनায় লিপ্তরা দুষ্টপ্রবৃত্তির কারণে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই এগুলো প্রতিহত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মীরাও এই দায়িত্বে এগিয়ে আসবেন।
সীমান্ত দিয়ে কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী যাতে দেশের মধ্যে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, এবং বিমানবন্দর থেকে আগুন-পাল্টায় অস্ত্র ও গোলাবারু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে; তদন্ত শেষে সরকার বিস্তারিত জানাবে।
উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আদালতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অভিযুক্তদের সহজভাবে জামিন না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। সবাই সতর্ক থাকবেন এবং সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন, সে-ই দেশের কল্যাণে অপরিহার্য।