মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- ইরানে সামরিক পোশাক পরে রাজতন্ত্রপন্থী পতাকার সঙ্গে ছবি তোলার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। তেহরানের পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশের পর নজরে আসেন এবং তাদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার” অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন সাবেক সেনা সদস্য এবং অন্যজন তার সহযোগী। তারা সম্প্রতি রাজধানী তেহরানের একটি পার্কে সামরিক পোশাক পরে ছবি তুলেছিলেন। ছবিগুলোতে তাদের হাতে দেখা যায় রাজতন্ত্র যুগের পতাকা, যেখানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীক নেই। ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি।
তেহরান পুলিশের মুখপাত্র কর্নেল আব্বাস মরাদিপুর বলেন, “এই ব্যক্তিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন। তাদের কর্মকাণ্ড রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর পতনের মাধ্যমে দেশটি ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এরপর থেকে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টাকে “রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ” হিসেবে গণ্য করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইরানে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং সরকারবিরোধী প্রতীক বা বক্তব্য প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখছে।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির অভ্যন্তরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একাংশ সরকারের পদক্ষেপের সমর্থন জানালেও অনেকেই বলছেন, শুধু একটি পতাকা হাতে ছবি তোলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
সুত্রঃ এএফপি