ভারী বৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গে ধস ও বন্যার আশঙ্কা, দার্জিলিং–শিলিগুড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- রাতভর টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে পাহাড়ি ও সমতল এলাকা। পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ধস, সেতু…
মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৫৬টি ঘটনায় ১৪০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩১ জন। গত এক যুগের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চের কাছাকাছি।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সন্দেহভাজন চোর, ডাকাত এবং ছিনতাইকারীরাও এসব সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সংস্থাটি মনে করে, ঘটনাগুলোর মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গত বছর গণ–অভ্যুত্থানের পর পুলিশের মনোবলে আঘাত লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করছে। এতে মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আইনজীবীরা মনে করেন, কার্যকর তদারকি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে এলেই গণপিটুনির সংখ্যা বাড়ে। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা যেমন বেড়েছিল, তেমনই ২০২৩ সালেও মৃত্যুর সংখ্যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি হয়। ২০২৪ সালে তা আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ ও অনভিপ্রেত সহিংসতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। শিশুদের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর। মনোবিজ্ঞানী মুনতাসীর মারুফ জানান, এমন অভিজ্ঞতা অনেকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি করে।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজন চোর বা অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত না হয়েই গণপিটুনিতে মানুষ নিহত হয়েছে। গোপালগঞ্জ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহীতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ঢাকার বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেণুকে পিটিয়ে হত্যার মামলাও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং সহিংসতা আগের তুলনায় কমছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, অবস্থা দ্রুত না সামলালে নির্বাচনের আগে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপরাধী যে–ই হোক, আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে মব সন্ত্রাস কমবে না। কার্যকর তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই সহিংসতা থামানো কঠিন হবে।
সুত্রঃ কালেরকণ্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au