বাংলাদেশ

নির্বাচন ঘিরে স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

  • 3:26 pm - December 29, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৭৮ বার
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত বাণিজ্যকে ঘিরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে মানবপাচার, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পরিবহন, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭৫০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে একজন চালক ও একজন হেল্পার থাকেন। তবে এসব চালক ও হেল্পারের আগমন ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো যাচাই-বাছাই হয় না। ফলে তাঁদের পরিচয়, যাতায়াতের সময় ও অবস্থানের কোনো তথ্য সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকছে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, একই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি ও ভারতীয় যাত্রীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হলেও পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। তাঁরা কাস্টমস কর্তৃক ইস্যু করা ‘কার পাস’ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। অধিকাংশ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রম না থাকায় যানবাহনের কাগজপত্র ও ভ্রমণ দলিল যাচাই শেষে এন্ট্রি ও এক্সিট সিল দেওয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের কোনো ডাটাবেস তৈরি হচ্ছে না এবং তাঁদের চলাচল কার্যত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা প্রায়ই সেই সীমানা অতিক্রম করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভেহিকল টার্মিনাল ও স্থলবন্দরের নির্ধারিত এলাকার বাইরেও তাঁদের অবাধ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক কারবারি, চোরাচালানকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং স্টপ লিস্টভুক্ত ব্যক্তিরা চালক বা হেল্পার পরিচয়ে ‘কার পাস’ সংগ্রহ করে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করতে পারেন। একইভাবে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পাররা অপরাধ সংঘটনের পর সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিবেদনে মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র পাচার, নকল পণ্য ও নথিপত্র পাচার এবং অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাতায়াতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চালক একজন বাংলাদেশি দালালের কাছে একটি ব্যাগ হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যদের সন্দেহ হলে ব্যাগটি তল্লাশি করে সার্বিয়ান ভিসাসংযুক্ত ২০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকচালককে উদ্ধার করা পাসপোর্টসহ বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের প্রতিনিধিরা বেনাপোল, হিলি ও বুড়িমারী স্থলবন্দর, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা কার পাস ব্যবহার করে দুই দেশের চালক ও হেল্পারদের যাতায়াতকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ করেন।

আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট ১৯৫২ অনুযায়ী কোনো ভারতীয় নাগরিক বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশের কোনো অংশে প্রবেশ করতে পারেন না। একইভাবে কাস্টমস আইন ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী যানবাহনের মালিক বা পরিচালনাকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাত্রীর তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রজ্ঞাপনেও স্থলপথে পণ্যবাহী যানবাহনের আগমন ও প্রস্থানের আগে কার পাস দাখিলের পাশাপাশি যানবাহন ও ক্রুর আগমনের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের আগমন ও প্রস্থান ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তাঁদের তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া, স্থলবন্দর ও ভেহিকল টার্মিনালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিং ও সমন্বিত নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

‘নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স’

গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্যাস…

দীর্ঘ সময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদির শুভেচ্ছা, কী ছিল বার্তায়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়ে ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে…

অটো পাইলট মোডে মহাসড়কের মাঝখানে থেমে যায় টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গভীর রাতে ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝখানে একটি টেসলা গাড়ি হঠাৎ সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা বিশালাকৃতির ফোর্ড এফ-৩৫০ পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় গাড়িটির…

বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে ইহুদিবিদ্বেষের হুমকি অবমূল্যায়িত হয়েছিল: মাইক বার্জেস

সিডনি: বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার আগে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের ভয়াবহতা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) মহাপরিচালক মাইক…

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au