বাংলাদেশ

নির্বাচন ঘিরে স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

  • 3:26 pm - December 29, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৯৯ বার
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত বাণিজ্যকে ঘিরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে মানবপাচার, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পরিবহন, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭৫০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে একজন চালক ও একজন হেল্পার থাকেন। তবে এসব চালক ও হেল্পারের আগমন ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো যাচাই-বাছাই হয় না। ফলে তাঁদের পরিচয়, যাতায়াতের সময় ও অবস্থানের কোনো তথ্য সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকছে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, একই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি ও ভারতীয় যাত্রীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হলেও পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। তাঁরা কাস্টমস কর্তৃক ইস্যু করা ‘কার পাস’ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। অধিকাংশ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রম না থাকায় যানবাহনের কাগজপত্র ও ভ্রমণ দলিল যাচাই শেষে এন্ট্রি ও এক্সিট সিল দেওয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের কোনো ডাটাবেস তৈরি হচ্ছে না এবং তাঁদের চলাচল কার্যত নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা প্রায়ই সেই সীমানা অতিক্রম করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভেহিকল টার্মিনাল ও স্থলবন্দরের নির্ধারিত এলাকার বাইরেও তাঁদের অবাধ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, মাদক কারবারি, চোরাচালানকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং স্টপ লিস্টভুক্ত ব্যক্তিরা চালক বা হেল্পার পরিচয়ে ‘কার পাস’ সংগ্রহ করে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করতে পারেন। একইভাবে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পাররা অপরাধ সংঘটনের পর সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিবেদনে মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র পাচার, নকল পণ্য ও নথিপত্র পাচার এবং অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাতায়াতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের সময় চালক একজন বাংলাদেশি দালালের কাছে একটি ব্যাগ হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যদের সন্দেহ হলে ব্যাগটি তল্লাশি করে সার্বিয়ান ভিসাসংযুক্ত ২০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পরে ট্রাকচালককে উদ্ধার করা পাসপোর্টসহ বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের প্রতিনিধিরা বেনাপোল, হিলি ও বুড়িমারী স্থলবন্দর, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা কার পাস ব্যবহার করে দুই দেশের চালক ও হেল্পারদের যাতায়াতকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ করেন।

আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট ১৯৫২ অনুযায়ী কোনো ভারতীয় নাগরিক বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশের কোনো অংশে প্রবেশ করতে পারেন না। একইভাবে কাস্টমস আইন ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী যানবাহনের মালিক বা পরিচালনাকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাত্রীর তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রজ্ঞাপনেও স্থলপথে পণ্যবাহী যানবাহনের আগমন ও প্রস্থানের আগে কার পাস দাখিলের পাশাপাশি যানবাহন ও ক্রুর আগমনের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেল্পারদের আগমন ও প্রস্থান ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তাঁদের তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া, স্থলবন্দর ও ভেহিকল টার্মিনালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিং ও সমন্বিত নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au