চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপ করা সেই আহত তরুণের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২২ জুন- রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রায় ১৫ দিন মৃত্যুর…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর স্থলভাগ, জলতল ও আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখার দাবি করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, “ইরান যুদ্ধ শুরু করতে চায় না, কিন্তু যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এক ইঞ্চিও পিছু হটা হবে না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংঘাত শুরু হলে ইরান দৃঢ় অবস্থানে থেকে এগিয়ে যাবে।
আকবরজাদেহ বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এখন আর প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘সম্পূর্ণ বুদ্ধিমান ব্যবস্থায়’ রূপ নিয়েছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রপথ, স্থলভাগ ও জলতলের সব ধরনের চলাচলের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোন পতাকার জাহাজ প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে, সেই সিদ্ধান্তেও ইরানের প্রভাব রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “তারা যদি নিজেরা যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তা থেকে কোনো সুবিধা আদায় করতে পারবে না।” তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী কোনো দেশের স্থলভাগ, আকাশসীমা বা জলসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে সেগুলোকে বৈরী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই বার্তা ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইআরজিসি কমান্ডার বলেন, ইরানের হাতে আরও অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং মোট বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়। প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশ এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে পৌঁছে।
এই জলপথ দিয়েই ইরানের তেলের একটি বড় অংশ চীনে রপ্তানি হয়। পাশাপাশি ইরাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে পরিবাহিত হয়। প্রণালিতে পরিবাহিত মোট তেলের মধ্যে সৌদি আরবের অংশ প্রায় ৩৫ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০ শতাংশ এবং ইরাকের ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে চলে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের বিষয়ে সামরিক পদক্ষেপসহ সব বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে দ্রুত ও সর্বাত্মক।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au