মেলবোর্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি- আগাম জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেতে যাচ্ছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৫২টি আসন। এর মধ্যে এলডিপি একাই পেয়েছে ৩১৬টি আসন, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
দলীয় প্রধান হওয়ার মাত্র চার মাস পরই জনসমর্থন যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে আগাম নির্বাচন আহ্বান করেন তাকাইচি। তার আগে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগের দুই প্রধানমন্ত্রীর সময় এলডিপির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে তাকাইচির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী কৌশল দলটির অবস্থান ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
নির্বাচনে জাপান ইনোভেশন পার্টি জোটের অংশ হিসেবে প্রায় ৩৬টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১১৩টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হলে তাকাইচি তার রক্ষণশীল নীতি ও সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও দৃঢ় অবস্থানে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই জয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও অভিনন্দন বার্তা এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকাইচিকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই ফলকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনের দিন তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যান। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকাইচির সক্রিয় উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে তাকাইচি অভিবাসন নীতি কঠোর করা, কর ও ব্যয়নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সমালোচকদের মতে, কর কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা জাপানের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ভূমিধস জয় জাপানের রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। চাইলে আমি এটাকে আরও সংক্ষিপ্ত বা আন্তর্জাতিক পাঠকের উপযোগী ভার্সনেও সাজিয়ে দিতে পারি।