আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন প্রতিশোধ নয়, দায়িত্বশীলতার সময়। নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও অজুহাতে কারও প্রতি অন্যায় করা যাবে না এবং যেকোনও মূল্যে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং এটিকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে আখ্যা দেন।
“এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের”
তারেক রহমান বলেন, “এই বিজয় বিএনপির একার নয়। এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।”
তিনি দাবি করেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সব বাধা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে জনগণ গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান নিয়ে যাত্রা শুরু
বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন সরকারকে এমন এক বাস্তবতায় কাজ শুরু করতে হবে যেখানে অর্থনীতি ভঙ্গুর, সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ক্ষত সারিয়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।”
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোনো বিশেষ শ্রেণিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। “আমরা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। ধনী আরও ধনী আর গরিব আরও গরিব—এমন বৈষম্যমূলক বাস্তবতা মেনে নেওয়া হবে না।”
প্রতিশোধ নয়, আইনের শাসন
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এখন দেশ গড়ার সময়। নির্বাচনের পর কোথাও যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “আমার বক্তব্য পরিষ্কার—কোনো অন্যায় ও বেআইনি কাজ বরদাশত করা হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বিরোধ যেন প্রতিশোধে রূপ না নেয়।”
তিনি সবাইকে শান্ত, ধৈর্যশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানান।
জাতীয় ঐক্যের ডাক
তারেক রহমান বলেন, পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাই এক। “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”
তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলেই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি ‘গণতন্ত্রের বাতিঘর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। প্রত্যেককে তিনি অভিনন্দন জানান।
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ
নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।”
দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল জনগণকে আমাদের ইশতেহারের মাধ্যমে বিশ্বাস করানো।”
পররাষ্ট্রনীতি: অগ্রাধিকার বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই হবে অগ্রাধিকার।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশই সার্কের উদ্যোক্তা। তাই সরকার গঠন করলে এ সংস্থাকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে অগ্রগতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্রের অঙ্গীকার
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষ বিএনপিকে বিজয়ী করেছেন। “এটা জনগণের বিজয়। আজ থেকে সবাই স্বাধীন। দেশে সবার অংশগ্রহণে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।”
তিনি আবারও বলেন, নতুন সরকার নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। এজন্য ভিন্নমতের সব মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন-পরবর্তী এই প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যে ছিল কৃতজ্ঞতা, সতর্কবার্তা এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি। তার বার্তা ছিল স্পষ্ট—বিজয় উদযাপনের চেয়ে বড় কাজ এখন রাষ্ট্র গড়া, আর সেই পথ শুরু হবে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার মধ্য দিয়ে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au