মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডায় ১৯৮৮ সালে সংঘটিত এক অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দ্বিতীয় অভিযুক্তকে শনাক্তে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর এক অভিযুক্ত দণ্ডিত হলেও আরেকজন এখনও অধরা।
পুলিশ জানায়, ১৯৮৮ সালের ২৩ জানুয়ারি সকালে সেন্ট কিল্ডার কার্লাইল স্ট্রিট দিয়ে হাঁটার সময় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে এলউড বিচের একটি পার্কিং এলাকায় নিয়ে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০২১ সালে ট্রাভিস রিয়েলির ডিএনএ প্রোফাইল জাতীয় ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর মামলায় অগ্রগতি আসে। ডিএনএ মিলের ভিত্তিতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে তিনি গুরুতর ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং প্রায় ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
তবে ঘটনায় জড়িত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ভিক্টোরিয়া পুলিশের যৌন অপরাধ দমন শাখার ডিটেকটিভ সিনিয়র সার্জেন্ট ব্রেট রবিনসন বলেন, “ভুক্তভোগীর জীবনে প্রতিদিনই এই প্রশ্ন ফিরে আসে যে আরেকজন ব্যক্তি এখনও মুক্তভাবে জীবন যাপন করছে। তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা থামব না।”
তিনি জানান, ১৯৮৮ সালের সময়কালে ট্রাভিস রিয়েলির বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সে সময় তাকে যারা চিনতেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য পেলে দ্বিতীয় অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
ভুক্তভোগী নারী, যিনি ‘মেরি’ ছদ্মনামে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন, বলেন, ঘটনার পর তার জীবন আমূল বদলে যায়। অপহরণের মুহূর্তের ভয়কে তিনি “প্রতিটি নারীর দুঃস্বপ্ন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের পর দীর্ঘদিন মানসিক আঘাত, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
ধর্ষণের কয়েক সপ্তাহ পর তার আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার ও উদ্বেগের কারণে তিনি মাত্র এক সেমিস্টার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। সেই সময় আঁকা কয়েকটি চিত্রকর্ম তিনি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, যা তার ভয় ও মানসিক যন্ত্রণার প্রতিফলন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রাভিস রিয়েলির দণ্ড ঘোষণার সময় তিনি নিজেকে প্রথমবারের মতো স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছেন বলে জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকাশ্যে কথা বলার মাধ্যমে দ্বিতীয় অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ এ ঘটনায় যার কোনো তথ্য আছে, তাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।