মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- সিরিয়ার একটি আইএস–সংশ্লিষ্ট শিবির থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ওপর সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, একই দলে থাকা আরও ৩৩ জনের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিষয়ে আলাদা কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নারী ও শিশু সম্প্রতি সিরিয়ার একটি শিবির থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে সিরীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফের আটক কেন্দ্রে পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী, বিধবা ও সন্তান। এদের মধ্যে ২৩ জনই শিশু।
অস্ট্রেলিয়া সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই দলকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোনো সহায়তা দেবে না। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় একটি সহিংস মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো নাগরিক বিদেশে আটকে থাকলে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উত্তর সিরিয়ার আল রোজ ক্যাম্পে ৪০টির বেশি দেশের দুই হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বিরোধী দলীয় সিনেটর জনো ডুনিয়াম এসব নাগরিকের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শিবিরগুলোতে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের আটকে রাখা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
সুত্রঃ বিবিসি