আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে দেশের দীর্ঘদিনের ‘বর্জন রাজনীতি’র ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ—যার মাধ্যমে বিরোধী দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি তিনি কিংবা তার জোটের অন্য সদস্যরা।
শপথ বর্জনের পেছনের কারণ
জাতীয় সংসদের উপনেতা মনোনীত হওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ না নেওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবেই তারা মন্ত্রীদের শপথে যাননি। তার ভাষায়, এটি পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বিএনপি শুরুতেই তা থেকে সরে এসেছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তারা আপত্তি তুলেছেন। “আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবেই ভূমিকা রাখবো,” বলেন তিনি।
এর আগে এক বিবৃতিতে শফিকুর রহমানও বলেন, গণতন্ত্র একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং তারা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চান।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের সমমনা জোট নিরঙ্কুশ জয় পায়। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পরাজিত হয়। ফল ঘোষণার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এলেও পরে রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তারেক রহমান জামায়াতসহ কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
তবে মঙ্গলবার সকালে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এতে জামায়াত ও তাদের জোটের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। যদিও পরে তারাও সংসদ সদস্য এবং পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন, কিন্তু দলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার।
ওই বৈঠকেই শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে উপনেতা এবং নাহিদ ইসলামকে চিফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিলেন জামায়াত। ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, বর্জন ও ওয়াকআউটের দীর্ঘ নজির রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে অনেক সময় বিরোধী দল সংসদ বর্জন করেছে, আবার কখনও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক লেখায় সম্পাদক মাহফুজ আনাম অতীতে সংসদে বিরোধী দলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার বিশ্লেষণে উঠে আসে, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয়মূলক ভূমিকার অভাব ছিল স্পষ্ট।
১৯৯১ সালের সংসদে আওয়ামী লীগের ৮৮ জন সদস্য বিরোধী দলে থাকলেও নিয়মিত ওয়াকআউট ও সংসদ বর্জনের কারণে কার্যকর বিরোধী দলের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের পরবর্তী সংসদগুলোতেও একই ধরনের রাজনৈতিক তিক্ততা ও বর্জনের চর্চা দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে এমন সংসদও ছিল যেখানে প্রধান বিরোধী দল অংশ নেয়নি, অথবা বিরোধী দল সরকারে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দলের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। “সব ইস্যুতেই বিরোধিতা, শপথে না যাওয়া, ওয়াকআউট—এসব ছিল নিয়মিত চিত্র। এবার পরিবর্তনের আশা ছিল, কিন্তু প্রথম দিনেই সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি,” বলেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিলেও আশা প্রকাশ করেন যে এটি স্থায়ী অবস্থান হবে না। তার মতে, সংসদ কার্যকর করতে সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদও বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সামনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারে।
মন্ত্রীদের শপথ বর্জন প্রতীকী প্রতিবাদ নাকি নতুন করে রাজনৈতিক দূরত্বের সূচনা—তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে প্রথম দিনেই পারস্পরিক অস্বস্তির ইঙ্গিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রাকে কিছুটা অস্বস্তিকর করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর থাকবে, সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধী দল কতটা সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা নেয় এবং সরকার সেই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্র কতটা উন্মুক্ত রাখে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au