নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ইফতারের অপরিহার্য উপকরণ লেবু, বেগুন, শসা থেকে শুরু করে ফলমূল ও খেজুর—সবকিছুর দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভালো মানের এক হালি (চারটি) লেবু কিনতে যেখানে ১০০ থেকে ১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে, একই টাকায় এখন পাওয়া যাচ্ছে এক ডজন ফার্মের ডিম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় সাইজের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। ইফতারের জনপ্রিয় খাবার বেগুনির প্রধান উপকরণ বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। শসার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
পেঁয়াজ, টমেটো ও কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
রমজান উপলক্ষে খেজুরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামেও লাফ দেখা গেছে। সাধারণ মানের খেজুর ৪০০ টাকার আশপাশে থাকার কথা থাকলেও বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। উন্নতমানের আজওয়া বা মরিয়ম খেজুরের দাম খুচরা বাজারে ৯৫০ থেকে ১,৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
ডজনপ্রতি কলা, যা কিছুদিন আগেও ৬০–৭০ টাকায় মিলত, এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকায়। আপেল ও মাল্টার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।
চকবাজারের বাসিন্দা মনসুর আলম বলেন, “রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজারে আসলেই মনে হয় আগুন লেগেছে।”
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে বলে জানান তিনি। তাদের মতে, নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি সংসারের বাজেটকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “নতুন সরকারের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ একটি বড় পরীক্ষা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে না।”
তিনি আরও বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মজুতদারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাস্তবে চাহিদা বাড়লেই দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক।
রমজান সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকে এবং রোজার মাসে ভোগান্তি কমে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au