মানবিক বিভাগে ১০০ ছাত্রের ৫৯ জনই ফেল
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের ফলাফলে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে চীনের পূর্বাঞ্চলে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে অঞ্চলটির যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট, বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি ও কিছু ট্রেন চলাচল। ঝড় দুর্বল হয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করলেও এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান এলাকায় আঘাত হানে টাইফুন ডলফিন। এ সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। প্রায় এক ঘণ্টা পর ঝড়টি ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝৌ শহরের কাছেও আঘাত হানে।
টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কায় চীনা কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সর্বোচ্চ মাত্রার রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। ঝড়ের গতিপথে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে স্থলভাগে প্রবেশের পর ডলফিনের শক্তি কিছুটা কমে যায় এবং এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। তবে ঝড়ের শক্তি কমলেও এর প্রভাব পুরোপুরি কেটে যায়নি। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত চীনের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকতে পারে।
সোমবার চীনের শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু ও ঝেজিয়াং প্রদেশ এবং সাংহাইয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র।
ঝড়ের কারণে চীনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শুধু সাংহাইয়েই প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে ২০০টির বেশি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ৪৭৪টি জাহাজকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
টাইফুনের কারণে পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়েছে। ঝুঁকি এড়াতে চীনের বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ডের কিছু অংশ এবং দ্য বান্ড এলাকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, সাংহাই ছাড়াও ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
টাইফুন ডলফিনের প্রভাব শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাপান, চীন ও তাইওয়ানে ঝড়ের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে রোববার বিকেল পর্যন্ত ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় টাইফুন ডলফিন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে এর সঙ্গে থাকা ভারী বৃষ্টির মেঘের কারণে কয়েক দিন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
টাইফুন ডলফিন আঘাত হানার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হেনেছিল টাইফুন নুল। সেটিকে চলতি বছরে চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন নুলের প্রভাবে ফিলিপাইনে তিনজন নিহত হন এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরপর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির পর সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধস ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au