ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া একদিকে নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার সুযোগও দেখছে।
গত এক সপ্তাহে দুইবার টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, সংঘাত নিরসনে দ্রুত উত্তেজনা কমানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে ফোনালাপেও তিনি ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।
ক্রেমলিনের দাবি, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতা, ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই পুতিন তার কূটনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে মস্কো। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগও দেখছে তারা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই শান্তির বার্তা কিছুটা বিতর্কিতও। কারণ, ২০২২ সালে তার নির্দেশেই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
মস্কো মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
সোমবার পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন, “পুতিন সাহায্য করতে চান।” তবে তিনি যোগ করেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করাই সবচেয়ে বড় সহায়তা হবে।”
ইরান সংঘাত রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়।
রাশিয়ার ফেডারেল বাজেট তৈরি করা হয়েছিল প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৫৯ ডলার ধরে। ফলে দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মস্কোর রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় চালানো সহজ হবে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় কিছু দেশের ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। যদি রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে দেশটি বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত কিয়েভের জন্য “ভয়াবহ আঘাত” হতে পারে এবং ট্রাম্পকে তা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের সমালোচনা না করলেও রাশিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম ইরান যুদ্ধ নিয়ে কড়া মন্তব্য করছে। কয়েকটি পত্রিকায় ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তা রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগও তৈরি করছে।
সুত্রঃ বিবিসি