জ্বালানি তেল উত্তোলনের দৃশ্য। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের ক্ষেত্রে যেমন সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশও তেমন একটি সুবিধা পাওয়ার আশা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অনুমোদন পাওয়া গেলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনবে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি পরবর্তী বিবেচনার জন্য ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনও এ পরিস্থিতিতে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বা কমে আসে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং দামের ওঠানামা আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনাবেচায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে সাময়িকভাবে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের ছাড় পাওয়ার আশা করছে, যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যায় এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি করা যেতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি স্বল্প, মধ্য কিংবা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকে, সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা বা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি