হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা, ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চাইল থাইল্যান্ড। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ব্যাংকক। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদও জানিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। হামলার পর জাহাজটির তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগের দিন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে থাই পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূত নাসেরেদ্দিন হেইদারিকে তলব করা হয়েছে। তার কাছে এ ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘মায়ুরি নারি’ নামের ওই জাহাজটিতে মোট ২৩ জন থাই নাবিক ছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে জাহাজটি হামলার শিকার হয়। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পরপরই ওমানের নৌবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে জাহাজের ২০ জন নাবিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে তিনজন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এ ঘটনার পর থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চলমান সংকট শুধু ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকদেরই নয়, বরং বাইরের দেশগুলোর নিরীহ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। এতে থাইল্যান্ডের নাগরিকরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি, বহু স্কুলছাত্রী, সাধারণ বেসামরিক মানুষ এবং দেশটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। দেশটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
এদিকে মার্চ মাস থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে বলে জানা গেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বুধবার ঘোষণা দিয়েছে, এই নৌপথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের আগে তেহরানের অনুমতি নিতে হবে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও অব্যাহত রেখেছে থাইল্যান্ড সরকার। বৃহস্পতিবার ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া আরও ৩৪ জন থাই নাগরিক তুরস্ক হয়ে দেশে পৌঁছেছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সর্বশেষ সংঘাতের পর থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৬ জন নাগরিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চারজন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে তিনজন করে, চীন, নেপাল ও ফিলিপাইন থেকে একজন করে রয়েছেন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার তিনজন নাগরিক এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি