শুধু পরিবর্তন নয়, ‘অত্যাচারীদের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি মোদীর
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ভাষণে…
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সস্তায় মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে থেকেও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি ঠেকানো সম্ভব হয়নি, যদিও শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
শনিবার রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা স্ট্রিম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: ক্যাবের ১৩ দফা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়।
ফরিদা আখতার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তায় মাংস, পোলট্রি বাচ্চা, ক্যাটফিশ এবং প্রাণিজ উপজাত আমদানির বিষয়টি শুরু থেকেই তাকে উদ্বিগ্ন করেছিল। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব পণ্য আমদানির বিষয়ে অনুমোদনের প্রস্তাব দেয়। তবে তখনই তিনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।
তার মতে, এসব পণ্য আমদানির আগে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ঝুঁকি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি ছিল। বিশেষ করে জুনোটিক বা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন রোগের ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, বিদেশি মাংস বা প্রাণিজ পণ্য দেশে ঢোকার আগে কঠোর পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা দরকার, কিন্তু আলোচিত চুক্তিতে সে ধরনের পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি।
ফরিদা আখতার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে আসার আগে আমাদের নিজস্ব পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেখানকার পরীক্ষার ফলই মূলত মানতে হবে, এতে স্থানীয়ভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। তার মতে, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চুক্তির গোপনীয়তা নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
ফরিদা আখতার বলেন, অনেকেই মনে করছেন নির্বাচনের ঠিক আগে এই চুক্তি হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এর প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই চলছিল। তার ভাষায়, একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে, অথচ সেটি নিয়ে ব্যাপক স্বচ্ছতা নেই। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই পুরো বিষয়টি জানতে পারছিলেন না।
তিনি বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা নীতি মেনে নেওয়া ঠিক নয়। এতে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফরিদা আখতার আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ডাম্পিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত উৎপাদিত যেসব মাংস বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেগুলোই কম দামে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, যে মাংসগুলো আমদানির কথা বলা হচ্ছে সেগুলোর অনেকই অতিরিক্ত উৎপাদনের ফল। এসব প্রাণীকে সাধারণত জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত সয়াবিন ও কর্ন খাওয়ানো হয়। ফলে এসব পণ্যের গুণগত মান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
তার মতে, যদি এসব মাংস কম দামে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে, তাহলে দেশের খামারি ও পশুপালন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য পশুপালনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিদেশি সস্তা পণ্য বাজারে ঢুকে পড়লে তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে যেতে পারে এবং এতে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তিনি বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশই পশুপালন ও খামারভিত্তিক কর্মকাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এই খাতকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশের ফলে যদি স্থানীয় খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারেন, তাহলে তা দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
ফরিদা আখতার বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে এবং সরকারের দায়িত্বশীল একজন সদস্য হিসেবে তিনি এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের ভেতরে থেকেও চুক্তি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে পারেননি বলে স্বীকার করেন তিনি।
তার ভাষায়, এই ব্যর্থতার দায় তার নিজেরও রয়েছে। তিনি মনে করেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও শক্তভাবে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাজকর্ম নিয়েও কথা বলেন। অনেকেই মনে করেন ওই সময়কার সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ ছিল, তবে ফরিদা আখতার মনে করেন বিষয়টি এত সরল নয়। তার মতে, প্রায় ১৮ মাস মেয়াদের সেই সরকারের সামনে বহু বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তিনি বলেন, প্রতিদিন নানা আন্দোলন, দাবি-দাওয়া এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনেক সমস্যা ও দাবি সেই সময়েই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। ফলে কিছু কাজ শুরু করা সম্ভব হলেও সব উদ্যোগ শেষ করা যায়নি।
ফরিদা আখতার বলেন, তাই পুরো সময়টিকে একেবারে হতাশাজনক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং সীমিত সময় ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au