ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার…
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র করে সৌদি আরব কয়েকজন ইরানি কূটনীতিককে ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করেছে। এর ফলে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সামরিক উপদূত, তার সহকারী এবং দূতাবাসের আরও তিনজন কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলার অধিকাংশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে এবং দুই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের প্রতি তাদের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও পারস্পরিক হামলার কারণে সেই সম্পর্ক আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ফলে তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনও কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au