ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করায় নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW)–এর প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ‘কোভিড–স্টাইল’ প্রোটোকল চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যভিত্তিক বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয়ভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিন্স বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন হলে রেশনিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম কিংবা অন্যান্য চাহিদা নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই জাতীয়ভাবে একসঙ্গে নিতে হবে। তিনি বলেন, “এটি এমন একটি বিষয় যেখানে সব রাজ্যের জন্য একই ধরনের নীতি থাকা প্রয়োজন।”
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিষয়টি রাজ্যগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এনএসডব্লিউ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সমন্বয় অপরিহার্য।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে শত শত পেট্রল স্টেশনে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, এনএসডব্লিউ–তে ১৬৪টি স্টেশনে ডিজেল নেই এবং ২৯০টিতে অন্তত একটি ধরনের জ্বালানি সরবরাহ নেই। ভিক্টোরিয়ায় ১৬২টি স্টেশনে এক বা একাধিক জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না, কুইন্সল্যান্ডে ৫৫টি স্টেশনে ডিজেল নেই এবং ৩৫টিতে সাধারণ পেট্রল নেই।
সরকার জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ডিজেলের মানদণ্ডে সাময়িক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের ফ্ল্যাশপয়েন্ট ৬১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমিয়ে ৬০.৫ ডিগ্রি করা হয়েছে, যা সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানির দামও দ্রুত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে ৪ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গড়ে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ২৩৮ সেন্ট, আর ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ২৮২.৪ সেন্ট।

বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নের কারণে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে, ক্যানবেরাসহ, জ্বালানির দাম বেড়েছে। (ছবি: ABC News / Adam Kennedy)
ফলে সাধারণ গাড়িচালকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। একটি ৫০ লিটারের ট্যাংক ভরতে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ১১৯ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৯ ডলার বেশি। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই খরচ আরও বেড়ে ১৪১ ডলারের বেশি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে।
সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au