ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিবৃতিতে এই প্রস্তাবকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ১১৯তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এতে ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঐক্য পরিষদ তাদের বিবৃতিতে এই আহ্বানকে ‘যথার্থ’ বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার নির্যাতন, সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ধরনের সহিংসতা দেখা গিয়েছিল, পরবর্তী সময়েও ভিন্ন ভিন্ন সরকারের আমলে নানা রূপে সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
ঐক্য পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে দেশে তাদের জনসংখ্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৯৭০ সালে যেখানে সংখ্যালঘুদের হার ছিল ১৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে ৯ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির মতে, এটি একটি পরিকল্পিত নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়ার অংশ, যার ফলে অনেক সংখ্যালঘু নাগরিক দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার না হওয়ায় দেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে আরও উৎসাহিত করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ফলে সুযোগ পেলেই তারা আবারও একই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠাসহ আট দফা দাবি বিভিন্ন সরকারের কাছে তুলে ধরেছে বলে জানানো হয়।
ঐক্য পরিষদ বলছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবাধিকার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের স্বকীয় অস্তিত্ব রক্ষায় তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা যেমন জোরদার করতে হবে, তেমনি দেশের ভেতরেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au