ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ১০ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাত দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। গত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাত দফার মধ্যে সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয় দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমোনায়। একই সময়ে রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। একাধিক হামলার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে তেল আবিবে হামলার পর ধ্বংসস্তূপ, আগুন এবং আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। শহরের কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন ধরে যায়। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, একাধিক স্থানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিবে একটি হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। মধ্য তেল আবিবের একটি ভবন ও আশপাশের সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রশ হেইন এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলার পরপরই মধ্যাঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরে তা আরও কয়েক দফায় বিস্তৃত হয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।
এদিকে ইসরায়েলও পাল্টা সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানায়, গত রাতে ইরানের ভেতরে ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের অভ্যন্তরে তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে তারা। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৮২৯ জন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১১ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্তত ১২ জনের অবস্থা গুরুতর।
এই দফায় দফায় হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতি হয়েছে। তবে তেহরান তার এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনার বাস্তবতা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দাবি এবং অন্যদিকে মিসাইল হামলার তীব্রতা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুতই বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au