কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ এপ্রিল- কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ বুধবার ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি মজুতের ট্যাংকগুলো লক্ষ্য করা হয়েছিল। এতে বিশাল আগুন লেগে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েত নিউজ এজেন্সি কুনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইরান ও তার সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বেসামরিক উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি বলেন, “জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে আগুন লেগেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।”
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ইতিমধ্যেই পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরান যুদ্ধের ‘শেষ রেখা’ দেখছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং চারটি প্রধান লক্ষ্য ধ্বংসের পথে রয়েছে। রুবিও বলেন, “আমরা তাদের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো ধ্বংসের পথে অনেকদূর এগিয়েছি। এই লক্ষ্য দ্রুত পূরণ হবে।”
এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন জনগণের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছে রয়টার্স ও ইপসোসের একটি জরিপে। জরিপে অংশগ্রহণকারীর প্রায় ৬৬ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত এই যুদ্ধ থেকে সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছে। ২৭ শতাংশ মনে করেন, সংঘাত দীর্ঘ হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে তাদের সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ৬ শতাংশ কোনো উত্তর দেয়নি। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মনে করেন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা দরকার, আর ৫৭ শতাংশ দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এছাড়া জরিপে দেখা গেছে, ১,০২১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৬০ শতাংশ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন, এবং ৩৫ শতাংশ তা সমর্থন করেছেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান