সংসদে বাদ পড়ছে গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের…
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার কাজে নিযুক্ত ৭ বিচারকের ওপর হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে, যে ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের ওপর হামলা শুধুই আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত। কোনও অবস্থাতেই এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।
মালদহের কালিয়াচক এলাকার একটি গ্রামে বুধবার বিচারকরা SIR-এর কাজে নিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তাঁদের ঘেরাও রাখা হয়। উদ্ধার করার সময় বিচারকদের গাড়ির ওপর ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। ৭ জনের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের চিঠির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি ওই বিচারকদের খাবার ও জল দেওয়া হয়নি।
রাত ১২টার পর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে তাঁদের মুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে ফেরার পথে বিচারকদের গাড়িতে আবারও পাথর ও বাঁশ দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠে।
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এটি প্রশাসনের ‘চরম ব্যর্থতা’। মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়নি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, এটি ‘কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং কার্যত সুপ্রিম কোর্টের উপর আক্রমণের সমান, কারণ বিচারকরা আদালতের নির্দেশে কাজ করছিলেন। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করা হয়।
আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট—যাঁরা বিচারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা আদালতের ‘প্রসারিত হাত’। তাঁদের ওপর ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়া মানে বিচারব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করা, এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আদালত কঠোর।
এই ঘটনায় বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এখন নজর থাকবে—কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে কী উঠে আসে এবং দায় নির্ধারণে কতটা অগ্রগতি হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au