একদিনে ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একদিনে আরও ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, চোরাচালান ও অনিয়ম রোধে গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুধু বুধবারই সারাদেশে ৩৮১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। একই দিনে ১৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ২ হাজার ৯টি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা। পাশাপাশি ২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জ্বালানির মধ্যে ডিজেল রয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতির তথ্যও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন। এছাড়া কেরোসিন রয়েছে ৯ হাজার ৩৭৮ টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ টন এবং পেট্রল ১২ হাজার ১৯৪ টন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে ৫৮ হাজার ৭৩৬ টন। এছাড়া বিমান পরিবহনের জন্য জেট ফুয়েল রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ টন এবং নৌপরিবহনের জন্য মেরিন ফুয়েল মজুত রয়েছে ১ হাজার ১৫৩ টন।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে বছরে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রলের মাসিক চাহিদা প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে এসব জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসজুড়েই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে এখনো আতঙ্কজনিত কেনাকাটার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর ফলে পেট্রল পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ মজুতের প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার যে অভিযান চালাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।