পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় উল্টোডাঙা এলাকা থেকে শেষবার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি চলচ্চিত্র নির্মাতা উৎসব…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়েছে। এর মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে বলে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমিতভাবে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি বৃহৎ গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি অতি বড় তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে, সেখানে মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
যেসব জাহাজ সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে, তাদের ইরানের উপকূলবর্তী লারাক দ্বীপের কাছে নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে, যেগুলোর বেশিরভাগই ইরান বা ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাস সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে ইরান বিপুল পরিমাণ ফি নিচ্ছে বলে জানা গেছে, যা কিছু ক্ষেত্রে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই ব্যবস্থাকে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তবে মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। উদাহরণ হিসেবে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে ফি না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদিও অনুমতি পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চীন জানিয়েছে, সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ সম্প্রতি এই প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনার জাহাজ দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় একসঙ্গে উচ্চ গতিতে উপসাগর ত্যাগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত শুরুর পর এগুলোই ছিল প্রথম অ-ইরানি কনটেইনার জাহাজ, যা সফলভাবে এলাকা ছাড়তে পেরেছে।
এ ছাড়া গ্রিসের একটি কোম্পানির পরিচালিত সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার এবং ভারতের পতাকাবাহী কয়েকটি এলপিজি পরিবহনকারী জাহাজও সীমিতভাবে চলাচল করতে পেরেছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে অনেক জাহাজের ক্রুরা রাতের অন্ধকারে চলাচল করা বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখার মতো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এদিকে সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
পাকিস্তানে একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বুধবার করাচি বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প পথে আরেকটি চালান পৌঁছেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও জ্বালানি সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাজ্য প্রায় ৩৫টি দেশকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে, যাতে সামুদ্রিক বাণিজ্য চলাচলের সংকট সমাধানের উপায় খোঁজা যায়। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে এই অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবরোধ না তুললে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au