যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হলেও এর পেছনের চিত্র পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, তবে একই সময়ে দেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। ফলে অবস্থান উন্নতির এই খবরের মধ্যেই রয়েছে উদ্বেগের ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারই সংকুচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি করে দ্বিতীয় স্থানে উঠলেও গত বছরের ১৫০ কোটি ডলারের তুলনায় তা কমেছে। ফলে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়নি, বরং অন্য দেশের বড় পতনের কারণে অবস্থান উন্নত হয়েছে।
বিশেষ করে চীনের রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটির রপ্তানি নেমে আসে ১১৭ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের ২৭৭ কোটি ডলার থেকে প্রায় ৫৭ শতাংশ কম। এই পতনই মূলত বাংলাদেশের জন্য জায়গা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলারের রপ্তানি করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং তাদের রপ্তানি বেড়েছে। ভারত ৭২ কোটি ডলারের রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে থাকলেও তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই এই পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বদলে যায়। বাংলাদেশ শুরুতে উচ্চ শুল্কের মুখে পড়লেও পরে তা কমিয়ে আনা হয়, যা কিছুটা সুবিধা তৈরি করে।
তবে শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিলেও সেই সুবিধা স্থায়ী হয়নি। অর্ডার বাড়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি, ফলে রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি আসেনি।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হলেও তা মূলত প্রতিযোগী দেশের দুর্বলতার ফল। টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।