অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- তামিল টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুভাষিনীর মরদেহ চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ পাসে সরকারের অনীহা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর আইন প্রণয়নে গড়িমসি দেশের জন্য অশনি সংকেত হতে পারে।
সোমবার সকালে রাজধানীতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রহিত, বাতিল বা সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং গুম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার দ্রুত আইন প্রণয়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বরং এগুলোকে পরে করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে প্রতিবন্ধকতা এবং বিচারিক ক্ষমতা নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার মতো বিষয় সামনে এনে এসব অধ্যাদেশকে অনিশ্চয়তায় ফেলে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত কার্যকর আইন না থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। এ বাস্তবতার ভুক্তভোগী হয়েও ক্ষমতাসীন মহল কেন এর প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে অনুধাবন করছে না, সেটিই সবচেয়ে বড় বিস্ময় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যেসব যুক্তি দেখিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পাসে বিলম্ব করা হচ্ছে, তা বরং জনমনে আরও শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসবের মধ্যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংশোধিত আইন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত দায়মুক্তির বিধান উল্লেখযোগ্য।
তবে টিআইবির মতে, আইনে পরিণত হতে যাওয়া এসব অধ্যাদেশের সবই ত্রুটিমুক্ত নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার কাঠামোতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকার পেয়েছিল। এই ক্ষমতা মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের কথা থাকলেও তা এখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সহজে অপসারণের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। এতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব অযাচিতভাবে বাড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলেরও সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এসব অধ্যাদেশে নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে টিআইবি মনে করে, মানবাধিকার সুরক্ষা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রণয়ন করা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au