চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও সরাসরি সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যেই এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ–এর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনার বিষয়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন সংলাপের ভেন্যু হিসেবে আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের দফা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও উভয় পক্ষই কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখতে আগ্রহী। পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে তারা নিয়মিতভাবে দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং মতপার্থক্য কমিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলছে। এই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
পরবর্তীতে ২৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার একদিন পরই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম ছিল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।
সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাও ওই হামলায় প্রাণ হারান।
পরে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এই যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের সরকারি প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী সেই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
এখন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও সংলাপে বসার উদ্যোগকে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখতে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার এই উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি চেষ্টা হলেও, পারমাণবিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্রঃ গালফ নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au