চলছে ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ প্রান্তে। আর মাত্র ৪৬ দিন পর, আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞ। ইতোমধ্যে প্রতিদিনের পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্ষণগণনা শুরু করেছে ফিফা।
বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে আফ্রিকা ও এশিয়ার দলগুলোর মুখোমুখি লড়াই বরাবরই ছিল আকর্ষণীয়। শেষ পাঁচটি বিশ্বকাপে এই দুই মহাদেশের দলগুলোর মধ্যে হয়েছে মোট ১৬টি ম্যাচ, যেখানে গোল হয়েছে ৪৬টি। পরিসংখ্যান বলছে, শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে দুই অঞ্চলই। আফ্রিকা ও এশিয়া উভয়ই জিতেছে পাঁচটি করে ম্যাচ, আর ছয়টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
এই দ্বৈরথের ইতিহাসে রয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় ম্যাচ। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া ও সৌদি আরব ২-২ গোলে ড্র করে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া ও কোরিয়া রিপাবলিক একই ব্যবধানে ড্র করে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোরিয়া ২-৪ গোলে হারে আলজেরিয়ার কাছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় জাপান ও সেনেগাল ২-২ গোলে ড্র করে। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঘানা ৩-২ গোলে হারায় কোরিয়াকে।
আসন্ন বিশ্বকাপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়বে। গ্রুপ পর্বেই আফ্রিকা ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর দলগুলোর মধ্যে হবে সাতটি ম্যাচ। উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে তিউনিসিয়া বনাম জাপান, জর্ডান বনাম আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কোরিয়া রিপাবলিক, মিশর বনাম ইরান, কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব, সেনেগাল বনাম ইরাক এবং কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইগুলো শুধু পরিসংখ্যানের হিসাবেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকার শারীরিক শক্তি ও গতির বিপরীতে এশিয়ার দলগুলোর কৌশলগত ফুটবল নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই মহাদেশের দ্বৈরথ হয়ে উঠতে পারে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।