যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব ইসলামাবাদ-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার উত্তরপ্রদেশের অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা ও ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে, যা রাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে যেমন প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে প্রশ্ন। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এত কঠোর পরিচয়ের একজন কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে পাঠানো মানে কি কমিশন কোনো বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে?
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্চ মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভোট নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চলছে। আগের নির্বাচনের মতো সহিংসতা এড়িয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই আপাতত কমিশনের লক্ষ্য।
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। এখন ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এই দফার আগেই ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন অজয় পাল শর্মা।
কে এই অজয় পাল শর্মা
অজয় পাল শর্মা ২০১১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা। তিনি পেশায় দাঁতের চিকিৎসক ছিলেন, পরে প্রশাসনিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ভূমিকার কারণে তিনি পরিচিত ‘সিংঘম’ এবং ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। নয়ডা, রামপুর, শামলি, জৌনপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন অভিযানে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৫ সালে তিনি উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে উন্নীত হন এবং চলতি বছরে পুলিশ মহাপরিদর্শক হন। তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং কঠোর ভূমিকার কারণেই তাকে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা কেন গুরুত্বপূর্ণ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জেলা। এখানে মোট ৩১টি বিধানসভা আসন রয়েছে, যার অনেকগুলোই অতীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত কয়েকটি নির্বাচনে এই এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন এবার বিশেষ নজরদারি রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রথম দফার ভোট শেষে বড় ধরনের অশান্তি বা পুনর্নির্বাচনের ঘটনা না ঘটায় কমিশন নিজেদের নিরাপত্তা কৌশলকে সফল হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে দ্বিতীয় দফা ভোটকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অজয় পাল শর্মার মতো কঠোর ভাবমূর্তির একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, কমিশন কি সম্ভাব্য অশান্তি আগেই অনুমান করছে? নাকি এটি শুধুমাত্র প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো এলাকায় এমন নিয়োগ ভোটের আগে প্রশাসনিক চাপ বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তাও দিতে পারে।
আগামী ভোটপর্ব ঘিরে এখন সবার নজর দক্ষিণবঙ্গের দিকে। কমিশনের দাবি, এবার নির্বাচন হবে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
সব মিলিয়ে অজয় পাল শর্মার নিয়োগ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au