চীনে ২০২২ সালের বিমান বিধ্বস্ত, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৬ মে- চীনের পাহাড়ি এলাকায় ২০২২ সালে বিধ্বস্ত হওয়া চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ১৩২ আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) বলছে, দুর্ঘটনাটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়, বরং মাঝ আকাশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটতে পারে।
তদন্তকারীরা বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ফ্লাইটটি স্বাভাবিক উচ্চতায় উড্ডয়নের সময় হঠাৎ করেই উভয় ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ ‘কাট-অফ’ অবস্থায় নেওয়া হয়। এর ফলে ইঞ্জিনের শক্তি দ্রুত কমে যায় এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচের দিকে ধেয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ফুয়েল সুইচ সাধারণত ইঞ্জিন চালু বা সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যা মাঝ আকাশে হঠাৎ করে বন্ধ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যে ইঞ্জিন পুনরায় চালু করার কোনো চেষ্টার প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তকারীদের ধারণা, ককপিটে থাকা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত বোয়িং ৭৩৭ মডেলের। এ কারণে তদন্তে সহায়তা করছে এনটিএসবি। তবে ঘটনার প্রায় চার বছর পার হলেও চীনের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ও রহস্যঘেরা বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। একই সঙ্গে এটি বিমান নিরাপত্তা ও ককপিট প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারে।
সূত্র : বিবিসি