সিরিয়া থেকে ফেরা আইএস-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই গ্রেপ্তার। ছবিঃ এবিসি নিউজ
মেলবোর্ন, ৭ মে- অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে আটকে থাকা ইসলামিক স্টেট (আইএস)–সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুরা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল রোজ শরণার্থী শিবির ছাড়ার পর তারা ধাপে ধাপে দেশে ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি দল মেলবোর্ন বিমানবন্দরে পৌঁছায়। একই সময় আরেক নারী ও তার সন্তান সিডনিতে অবতরণ করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিডনিতে অবতরণ করা নারী ও তার সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে আটক ছিলেন।
এই নারীদের অনেককে পশ্চিমা গণমাধ্যমে “আইএসআইএস ব্রাইড” বলা হয়। তারা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের সময় সিরিয়ায় গিয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে আইএসের তথাকথিত “খিলাফত” পতনের পর সেখানে আটকা পড়ে যান
অস্ট্রেলিয়ার ১৩ নাগরিক (চার নারী ও নয় শিশু) গত ২৪ এপ্রিল আল রোজ শিবির ত্যাগ করেন। পরে তারা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই এই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার ফ্লাইট বুক করা হয়।
তবে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, আইএস-সংশ্লিষ্ট এসব পরিবারকে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে না।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (AFP) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, দেশে ফেরার পর কয়েকজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এএফপি কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধ, নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ—যেমন দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কিছু নারীর বিরুদ্ধে তদন্ত দেশে ফেরার পরও চলবে। বর্তমানে সিরিয়ার আল রোজ শিবিরে আরও ২১ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দোহা বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে কয়েকজন নারী এবিসি নিউজকে বলেন, তারা শুধু তাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান। এক নারী বলেন, “সিরিয়ায় আমাদের সন্তানদের জীবন ছিল নরকের মতো।”
অস্ট্রেলিয়ার ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ দূত আফতাব মালিক বলেন, এই পরিবারগুলোর প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি “চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি” তৈরি করেছে।
তিনি সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের যেন অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা না হয়।
তার ভাষায়, “আমাদের সহানুভূতি থাকা উচিত সেই শিশুদের প্রতি, যারা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে জন্ম নিয়েছে এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় হয়েছে।’
সূত্রঃ এবিসি নিউজ